অনেকদিন হলো প্রণবের সাথে দেখা হয় না।
অনার্সে পড়াকালীন প্রায়ই আমার সাইকেল তার বাসায় রেখে ট্রেন ধরতে যেতাম। ব্রিটিশদের নির্মিত সেই মধ্যযুগীয় স্টেশন। ভারী ভারী স্টিলের নিচে রেললাইনের পাশে সকালে এসে আমরা জমা হতাম।
প্রণব ঘুমকাতুরে। স্টেশনে গাড়ির হুইসেল শুনে সে রেডি হয়ে আসে স্টেশনে। কথায় একটা ভারী ভারী ভাব। প্রাণবন্ত, স্বাস্থ্য ভাল, উচ্চ বিত্তদের পাশাপাশি তার কথায় ফুটে দরিদ্রদের কথাও।
আমরা স্টেশনে, মামুর হোটেলে আর কলেজের অনার্স ভবনে আড্ডা দেই। প্রণব জেমসের গান গায়, কখনো বেসুরো গলায় জোড়ে গান ধরে সে। এতে অনেকেই গাওয়ার আগ্রহ পায়।
আমি মাঝেমাঝে তার বাসায় যাই। তাঁর মা বড় ভাল মানুষ। ধর্ম বর্ণের কথা মনে না রেখে তিনি তাঁর ছেলের মতোই আমাকে দেখেন। তিনি আমাকে বলেন, প্রণবের কথা। সে এখনো অবুঝের মত অবাস্তব জগতেই আছে বলে তার মায়ের ধারণা। কাজের আগ্রহ নেই।
কাওরাইদ, গয়েশপুর ঘুরেছি এক সাথে আমরা। পালদের বাড়িতে পুতুল গড়া দেখেছি। তার বাড়ি থেকে নীল অপরাজিতা ফুল এনে লাগিয়েছি আমাদের মসজিদের বাগানে।
একবার একটা ম্যাগাজিন খোলার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করলাম আমরা।আমি সম্পাদক। সহ-সম্পাদক সে। প্রিন্সিপ্যাল নুরুন্নবী আকন্দ আমাদের কথা দিলেন প্রিন্টের কাজ তিনি করাবেন। মহাখুশিতে লেখা টাইপ করে ফেললাম রাত জেগে জেগে।
আমাদের কাজ সমাপ্ত হলো। কিন্তু প্রিন্সিপাল স্যার সরাসরি আমাদের সাথে অসহযোগিতামূলক আচরণ করলেন। তিনি সবার সামনে তার দায়িত্ব অস্বীকার করে বসলেন।
আমরা নিরাশ হইনি।
বন্ধু প্রণব,জাহাঙ্গীর আমরা সবাই মিলে কতবার যে প্রিন্সিপ্যাল স্যারের কাছে গেছি, তার ইয়ত্তা নেই। হাবিব স্যার একদিন পুরো ক্লাসটা ম্যাগাজিন নিয়ে আলোচনা করলেন। লেখা জমা পড়লো। ম্যাগাজিনটা ব্যয়বহুল ছিল। আমাদের সব কাজ কমপ্লিট। শুধু প্রিন্টটা বাকি। প্রিন্ট হলোনা। রবিন একবার সবার কাছ থেকে টাকা তুলে প্রিন্ট করানোর কথা বলেছিল। কিন্তু স্যার একটা বাণী দিতেও অস্বীকৃতি জানালেন।
ম্যাগাজিনটি পরে আমরা বিনামূল্যে সবাইকে পড়ার জন্য অনলাইনে দিয়ে দেই।
এখনো এই লিংকে সেটা পড়ে আছে।
www.kchom.blogspot.com
সময়ের সাথে প্রণবও হারিয়ে গেছে। আমিও ঢাকায়। প্রানপ্রিয় বন্ধু জাহাঙ্গীরের সাথেও কম যোগাযোগ হচ্ছে। রাসেল আছে পুলিশে।
সময় শিকল বেঁধে দেয় আমাদের পায়ে। বয়সের সাথে সেটা আঁটোসাঁটো হতে থাকে। শিকলে আমার টান পড়েছে।